বিশ্ববাজারে সপ্তাহজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৪ শতাংশ

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে চলতি সপ্তাহে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৪ শতাংশ।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে চলতি সপ্তাহে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৪ শতাংশ। তবে হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, ইসরায়েল-ইরান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে কিনা সে বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেবেন। সিদ্ধান্ত বিলম্ব হওয়ার এ খবরে গতকাল জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমেছে। খবর রয়টার্স।

অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম গতকাল ব্যারেলে ১ ডলার ৫৭ সেন্ট বা ২ শতাংশ কমেছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য স্থির হয়েছে ৭৭ ডলার ২৮ সেন্টে। যদিও এ সময় দাম বেড়েছে মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই)। বাজারে গতকাল জুলাইয়ে সরবরাহের চুক্তিতে ডব্লিউটিআইয়ের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৭৫ ডলার ৬৬ সেন্ট। এটি এর আগের তুলনায় ৫২ সেন্ট বা দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। আর আগস্টে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআইয়ের দাম গতকাল ছিল ৭৪ ডলার ৬ সেন্ট, যা আগের তুলনায় ৫৬ সেন্ট বা দশমিক ৮ শতাংশ বেশি।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ইরানের পারমাণবিক লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েল হামলা চালানোর পর এবং ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালালে জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে যায়। ওপেকের তৃতীয় বৃহত্তম জ্বালানি তেল উত্তোলনকারী দেশ ইরান ও ইসরায়েল উভয় পক্ষই এখনো যুদ্ধ থেকে পিছিয়ে আসার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি।

এ বিষয়ে পিভিএম অ্যানালিস্ট জন ইভানস বলেন, ‘বিশ্ববাজারে ২০২৫ সালের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি তেলের সরবরাহ রয়েছে। কিন্তু যুদ্ধের কারণে যদি দৈনিক দুই কোটি ব্যারেল জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হয়, এমনকি তা অল্প সময়ের জন্য হলেও পরিস্থিতি পাল্টে যাবে।’

ইরান এর আগেও পশ্চিমা চাপের জবাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকি দিয়েছে। এ প্রণালি বন্ধ হলে বৈশ্বিক জ্বালানি তেল সরবরাহ ও বাণিজ্যে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

কিছু শিপিং সূত্র জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজগুলো বর্তমানে ওমান উপকূল ঘেঁষে চলাচল করছে। বিভিন্ন সামুদ্রিক সংস্থা তাদের ইরানের জলসীমা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।

প্যানমুর লিবারামের বিশ্লেষক অ্যাশলি কেলটি বলেন, ‘ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনার কারণে জ্বালানি তেলের দামে বর্তমানে ব্যারেলপ্রতি ১০ ডলার হারে বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তবে শিগগিরই দাম ব্যারেলে ৬০ ডলারে নেমে যেতে পারে।’

তবে তিনি জানিয়েছেন, ‘ইসরায়েল যদি ইরানের রফতানি অবকাঠামোয় আঘাত হানে বা ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্য সরবরাহ বাধাগ্রস্ত করে তাহলে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছতে পারে।

এদিকে বিশেষজ্ঞ ও ওপেক পর্যবেক্ষকরা এর আগে জানিয়েছেন, ইরান থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যাহত হলে তা পুষিয়ে নেয়া কঠিন হবে। হামলার কারণে সরবরাহ ব্যাহতের মতো ঘটনায় এ ঘাটতি পূরণ করতে হলে ওপেক প্লাসের হাতে অন্য কোনো সংকট মোকাবেলার মতো অতিরিক্ত মজুদ থাকবে না। এছাড়া প্রতিবেশী দেশগুলোর অবকাঠামো বা উপসাগরের জ্বালানি তেল চলাচলে ইরান বাধা সৃষ্টি করলে পরিস্থিতি আরো গুরুতর হয়ে উঠবে।

আরও